নেছারাবাদে মৎস্য দপ্তরের সহায়তায় জেলেদের চাউল চুরি, ধরা পড়ে ফেরতের সিদ্ধান্ত
- আপডেট সময় : ০১:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩ ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলা মৎস্য অফিসের সহায়তায় বলদিয়া ইউপির জেলেদের চাউল চুরি করেছে জনৈক শহিদ বিশ্বাস। তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসে চাউল না পাওয়া তালিকাভুক্ত ৪ জন জেলের অভিযোগের পরেও তাদের চাউল দেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করে চাউল ফেরৎ দিতে সম্মত হয়।
উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সুনিল জানায়, মৎস্য অফিসের সাথে আতাত করে শহীদ বিশ্বাস বলদিয়া ইউপির জেলে তালিকা থেকে শুরু করে সকল কাজ একাই করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগের পর গতকাল ৪ জুন রবিবার দুপুরে জাতীয় মৎস্যজিবী সমিতির সভাপতি মোশারফ ও মৎস্য অফিসের লোকজন এক শালিস বৈঠকে বসে। এসময় শহীদ বিশ্বাস নিজে জেলে না হয়েও বলদিয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি হয়ে ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সালেক চৌকিদারসহ জেলে নয় এমন লোকজন তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত জেলেদের সরকারি সহায়তার এই চাউল বঞ্চিত করে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। জেলেদের মধ্যে যারা তালিকায় রয়েছে তাদের চাউল চুরি করায় মৎস্য অফিসের অফিস সহকারি ফিরোজের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে চোরাই চাউল ফেরৎ দিবে মর্মে এক দিনের সময় চেয়ে প্রার্থনা করে। এসময় সমুদ্রগামী আট জেলের চাউল নিজ জিম্মায় রাখার বিষয় স্বীকার করে তাদের আগামীকাল বিতরণ করবে বলে অঙ্গীকার করে।
শহীদ বিশ্বাসের বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, সে জেলে নয় জিবনে একটা মাছও ধরেনি। পেশায় নৌকা মিস্ত্রী কিন্তু সে বাটপারি চিটারি করে চলে। উপজেলার সকল সরকারি সহায়তার তালিকায় লোকজনের নাম দিয়ে বাটপারি করে নিজে খায়। প্রতিবন্ধি মোঃ নজরুল ইসলাম জানায়, তার পঙ্গুভাতার আঠারো হাজার টাকার পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তের হাজার টাকা চুরি করে এই শহীদ।
জেলেদের তালিকা নিয়ে সরেজমিনে গণমাধ্যম কর্মীরা রাজাবাড়ি গ্রামে গেলে লোকজনের মধ্য থেকে সহায়তাভোগী সালেক চৌকিদার বাগানের ভেতর দৌড়ে পালায়। এসময় এলাকাবাসী জানায়, এই গ্রামে যাদের নাম এসেছে তারা কেউ জেলে নয়। দলীও লোকজনের নাম দিয়ে অনেকেই সুবিধা লুটছেন। এ ব্যাপারে শহীদ বিশ্বাস জানান, তিনি ইউনিয়ন কৃষকলীগের কমিটিতে রয়েছেন এবং মৎস্যলীগের সভাপতি। নেতাদের নির্দেশমতে সহায়তার তালিকা প্রস্তুত করে বিতরণ করেছে। মাস্টার রোলে নাম থাকা চারজনার চাউল কাল দেওয়া হবে। সমুদ্রগামী জেলেদের চাউল রাখা আছে সেটাও ফেরৎ দিবে বলে জনান।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, প্রকৃত জেলের সংখ্যা খুবই কম। অনেক আগে জেলেদের কার্ড করা হয়েছে তখন অনেক সুবিধাভোগী এই তালিকায় নাম উঠানোয় এখন সমস্যা হচ্ছে। এখন থেকে প্রকৃত জেলেদের নাম সার্ভে করে নতুন লিস্ট প্রস্তুত করা হবে।










