মঠবাড়িয়া ১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বামনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সংবর্ধনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত প্রবাসী মেয়েদের পাঠানো টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনলেন বাবা”আদালতে মামলা” মিরুখালী রোডে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ বামনায় আসমাতুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় প্রকৌশলী মিঠু ও ইসমাইল গংদের মধ্যে জমির বিরোধ : আদালতে মামলা  মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা পরিষদ গঠন মঠবাড়িয়ায় দস্যুতা মামলায় নলী জয়নগরের হাসান চোর গ্রেফতার মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত  মঠবাড়িয়ায় জাতীয় পরিচয় পত্র জাল জালিয়াতি করে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের অভিযোগ 

প্রবাসী মেয়েদের পাঠানো টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনলেন বাবা”আদালতে মামলা”

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুর মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী এলাকায় প্রবাসী মেয়েদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনে দিলেন বাবা।এ ঘটনায় বাবাসহ ভাইদের নামে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রবাসী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সিআর মামলা নং-৭৭/২৬।

মামলার আসামিরা হলো-,১। মোঃ আঃ রহিম (৬০) ২। মোঃ মাহফুজ (৩০) ৩। মোঃ মিজানুর রহমান (৩৫) ৪। মোসাঃ লাইজু বেগম (৩০) এবং ৫। মোসাঃ জেসমিন (২৬)

মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রবাসী ফাতিমা আক্তার মুন্নী ও মমতাজ বেগম ২০০৫ সাল থেকে ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময় তাদের বাবা হাজী আঃ রহিম মুসুল্লির একাউন্টে ৬০ লাখ টাকা প্রেরণ করেন।হিসাব নং-SB-6743 সোনালী ব্যাংক,বরগুনা শাখ।উক্ত শাখা থেকে আসামিরা বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে তাদের সুবিধামত বিভিন্ন সময়ে সম্যক টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, আমাদের টাকা আত্মসাৎ করে তারা এখন আমাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে।বাবার বাড়িতে টাকা চাইতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি।আমাদের ওপর হামলা করে স্বর্ণালংকার সহ বিদেশ থেকে আনা লাগেজ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থানা পুলিশ কিছুটা উদ্ধার করলেও অধিকাংশই তারা গোপন করে ফেলেছে।

তাদের আরও অভিযোগ, আমাদের ওপর হামলা করে আমাদের নামে বড় ভাই মিজানের স্ত্রী লাইজু বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছে। এতে আমরা বিদেশে থেকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি।মঠবাড়িয়া থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় শালিস মানা হলেও তারা উকিল নোটিশ করে সে শালিসি বানচাল করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসী ফাতিমা আক্তার মুন্নীর চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর এবং মামাতো ভাই স্বপন মিয়া জানান,মেয়েরা বিশ্বাস করে বাবার কাছে বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু বাবায় বিশ্বাস ভঙ্গ করে মেয়েদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা না করেই ওই টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনেছে।এখন মেয়েদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।বিষয়টি অমানবিক।

প্রবাসী ফাতিমা মুন্নীর চাচা এমাদুল হক জানান,মেয়েদের টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনে দিয়েছে। এখন মেয়েদের বাবার বাড়িতে আসতে দেওয়া হয় না।একবার বিদেশ থেকে মালামাল নিয়ে বাবার বাড়িতে এসেছিল মেয়েরা।কিন্তু ঘর পর্যন্ত যাওয়ার আগেই তাদের ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীরা মারধর করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় কামাল পঞ্চায়েত জানান,আমরা শালিসির মাধ্যমে মেয়েদের টাকা ফেরত অথবা জমি লিখে দিতে বলছিলাম। কিন্তু রহিম মুসুল্লি ও তার ছেলেরা তা শোনে নাই।

প্রবাসী ফাতিমার ভাই মাহফুজ জানান,বোনদের টাকা দিয়ে আমার বাবা আমাদের নামে জমি কিনে দিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়।তাছাড়া তাদের ওপর হামলা ও মালামাল লুটপাট করে নেওয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়। কিছু মানুষের কুপরামর্শে বোনরা আমাদের হয়রানি করে আসছে।

এ ব্যাপারে পিবিআই পিরোজপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ব্যাংক হিসাবের বিবরনী ও ব্যাংক হিসাবধারীর নাম ঠিকানা চেয়ে আদালতের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট হাতে পেলেই যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে হাজী আঃ রহিম মুসুল্লির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমি মামলা মোকদ্দমা চাই না।এই বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর আগে এর একটি সুরাহা চাই।কেউ সুরাহা করে দিলে আমরা তা মেনে নিব।তবে উকিল নোটিশ দিয়ে শালিসি ভেঙে দিছেন কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রবাসী মেয়েদের পাঠানো টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনলেন বাবা”আদালতে মামলা”

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

পিরোজপুর মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী এলাকায় প্রবাসী মেয়েদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনে দিলেন বাবা।এ ঘটনায় বাবাসহ ভাইদের নামে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রবাসী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সিআর মামলা নং-৭৭/২৬।

মামলার আসামিরা হলো-,১। মোঃ আঃ রহিম (৬০) ২। মোঃ মাহফুজ (৩০) ৩। মোঃ মিজানুর রহমান (৩৫) ৪। মোসাঃ লাইজু বেগম (৩০) এবং ৫। মোসাঃ জেসমিন (২৬)

মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রবাসী ফাতিমা আক্তার মুন্নী ও মমতাজ বেগম ২০০৫ সাল থেকে ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময় তাদের বাবা হাজী আঃ রহিম মুসুল্লির একাউন্টে ৬০ লাখ টাকা প্রেরণ করেন।হিসাব নং-SB-6743 সোনালী ব্যাংক,বরগুনা শাখ।উক্ত শাখা থেকে আসামিরা বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে তাদের সুবিধামত বিভিন্ন সময়ে সম্যক টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, আমাদের টাকা আত্মসাৎ করে তারা এখন আমাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে।বাবার বাড়িতে টাকা চাইতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি।আমাদের ওপর হামলা করে স্বর্ণালংকার সহ বিদেশ থেকে আনা লাগেজ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থানা পুলিশ কিছুটা উদ্ধার করলেও অধিকাংশই তারা গোপন করে ফেলেছে।

তাদের আরও অভিযোগ, আমাদের ওপর হামলা করে আমাদের নামে বড় ভাই মিজানের স্ত্রী লাইজু বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছে। এতে আমরা বিদেশে থেকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি।মঠবাড়িয়া থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় শালিস মানা হলেও তারা উকিল নোটিশ করে সে শালিসি বানচাল করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসী ফাতিমা আক্তার মুন্নীর চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর এবং মামাতো ভাই স্বপন মিয়া জানান,মেয়েরা বিশ্বাস করে বাবার কাছে বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু বাবায় বিশ্বাস ভঙ্গ করে মেয়েদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা না করেই ওই টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনেছে।এখন মেয়েদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।বিষয়টি অমানবিক।

প্রবাসী ফাতিমা মুন্নীর চাচা এমাদুল হক জানান,মেয়েদের টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনে দিয়েছে। এখন মেয়েদের বাবার বাড়িতে আসতে দেওয়া হয় না।একবার বিদেশ থেকে মালামাল নিয়ে বাবার বাড়িতে এসেছিল মেয়েরা।কিন্তু ঘর পর্যন্ত যাওয়ার আগেই তাদের ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীরা মারধর করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় কামাল পঞ্চায়েত জানান,আমরা শালিসির মাধ্যমে মেয়েদের টাকা ফেরত অথবা জমি লিখে দিতে বলছিলাম। কিন্তু রহিম মুসুল্লি ও তার ছেলেরা তা শোনে নাই।

প্রবাসী ফাতিমার ভাই মাহফুজ জানান,বোনদের টাকা দিয়ে আমার বাবা আমাদের নামে জমি কিনে দিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়।তাছাড়া তাদের ওপর হামলা ও মালামাল লুটপাট করে নেওয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়। কিছু মানুষের কুপরামর্শে বোনরা আমাদের হয়রানি করে আসছে।

এ ব্যাপারে পিবিআই পিরোজপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ব্যাংক হিসাবের বিবরনী ও ব্যাংক হিসাবধারীর নাম ঠিকানা চেয়ে আদালতের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট হাতে পেলেই যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে হাজী আঃ রহিম মুসুল্লির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমি মামলা মোকদ্দমা চাই না।এই বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর আগে এর একটি সুরাহা চাই।কেউ সুরাহা করে দিলে আমরা তা মেনে নিব।তবে উকিল নোটিশ দিয়ে শালিসি ভেঙে দিছেন কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।