মঠবাড়িয়া ০৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ায় প্রকৌশলী মিঠু ও ইসমাইল গংদের মধ্যে জমির বিরোধ : আদালতে মামলা  মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা পরিষদ গঠন মঠবাড়িয়ায় দস্যুতা মামলায় নলী জয়নগরের হাসান চোর গ্রেফতার মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত  মঠবাড়িয়ায় জাতীয় পরিচয় পত্র জাল জালিয়াতি করে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের অভিযোগ  মঠবাড়িয়া উপজেলার নব-যোগদানকৃত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ মঠবাড়িয়ায় বিকাশ একাউন্টে ৩ ঘন্টায় এক কোটি টাকার লেনদেন, গ্রে’ফ’তা’র-২ মঠবাড়ীয়া মোমেনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, অংশ নিলেন সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলাল মঠবাড়িয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউএনও অফিসের চাবি চুরির অভিযোগ :থানায় মামলা মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি আত্মহত্যা

পিরোজপুরের পিপির আচরণ বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক: হাইকোর্ট

পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২ ৩৮৪ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর নোমানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিনকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, পিরোজপুরের পিপি একজন বিচারকের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক। বিচার বিভাগের জন্য কলঙ্ক। এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।

মঙ্গলবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। এর আগে আদালতের তলবে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন পিরোজপুরের পিপি খান মো. আলাউদ্দিন।

আদালতে পিপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সুপ্রিমকোর্ট বার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা, সুপ্রিমকোর্ট বার সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল, অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি, অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু ও অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন।

আদালত পিরোজপুরের পিপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি কোনো সাধারণ আইনজীবী নন। আপনি পিরোজপুরের পিপি, আইনজীবী নেতা। আপনারা যদি বিচারককে, আদালতকে সম্মান না করেন তাহলে তো সাধারণ মানুষ সম্মান করবে না। আর যদি আদালতের প্রতি, বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা উঠে যায়, তাহলে তো কেউ বাঁচবেন না। আমরা যদি আপনার আচরণ অ্যালাউ করি, তাহলে সাধারণ মানুষের মাঝে কী মেসেজ যাবে? বিচারকের সঙ্গে আপনার এ আচরণের কারণে যে ড্যামেজ হয়েছে, তার খেসারত দিতে হবে। আপনার আচরণের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। আপনারও তো অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এটা তো আপনার জীবনের বড় দুর্ঘটনা।

আদালত আরও বলেন, আদালত শক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়। এখানে যত বিনয়ী হবেন তত বড় হতে পারবেন। এখন যদি আপনাকে আমরা ৬ মাসের জন্য আইন পেশা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিই তখন আপনার কী হবে?

এ সময় উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, আমরা তার পক্ষ হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।

এ পর্যায়ে আদালত পিপিকে ডায়াসের সামনে ডাকেন। তখন পিপি বলেন, আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের আচরণ করব না। পরে আদালত তাকে সতর্ক করে ক্ষমা করে দেন।

গত ১৭ অক্টোবর পিরোজপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মো. নোমানকে হুমকি ও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিনকে তলব করেন হাইকোর্ট।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর পিরোজপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মো. নোমান পিপির বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ এনে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দেন। পরে প্রধান বিচারপতি পিরোজপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পিরোজপুরের পিপির আচরণ বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক: হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২

পিরোজপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর নোমানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিনকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, পিরোজপুরের পিপি একজন বিচারকের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক। বিচার বিভাগের জন্য কলঙ্ক। এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।

মঙ্গলবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। এর আগে আদালতের তলবে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন পিরোজপুরের পিপি খান মো. আলাউদ্দিন।

আদালতে পিপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সুপ্রিমকোর্ট বার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা, সুপ্রিমকোর্ট বার সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল, অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি, অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু ও অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন।

আদালত পিরোজপুরের পিপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি কোনো সাধারণ আইনজীবী নন। আপনি পিরোজপুরের পিপি, আইনজীবী নেতা। আপনারা যদি বিচারককে, আদালতকে সম্মান না করেন তাহলে তো সাধারণ মানুষ সম্মান করবে না। আর যদি আদালতের প্রতি, বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা উঠে যায়, তাহলে তো কেউ বাঁচবেন না। আমরা যদি আপনার আচরণ অ্যালাউ করি, তাহলে সাধারণ মানুষের মাঝে কী মেসেজ যাবে? বিচারকের সঙ্গে আপনার এ আচরণের কারণে যে ড্যামেজ হয়েছে, তার খেসারত দিতে হবে। আপনার আচরণের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। আপনারও তো অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এটা তো আপনার জীবনের বড় দুর্ঘটনা।

আদালত আরও বলেন, আদালত শক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়। এখানে যত বিনয়ী হবেন তত বড় হতে পারবেন। এখন যদি আপনাকে আমরা ৬ মাসের জন্য আইন পেশা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিই তখন আপনার কী হবে?

এ সময় উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, আমরা তার পক্ষ হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।

এ পর্যায়ে আদালত পিপিকে ডায়াসের সামনে ডাকেন। তখন পিপি বলেন, আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের আচরণ করব না। পরে আদালত তাকে সতর্ক করে ক্ষমা করে দেন।

গত ১৭ অক্টোবর পিরোজপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মো. নোমানকে হুমকি ও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিনকে তলব করেন হাইকোর্ট।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর পিরোজপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মো. নোমান পিপির বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ এনে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দেন। পরে প্রধান বিচারপতি পিরোজপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন।