মঠবাড়িয়ায় আশ্রয়ণের ঘরে তালা, দখলে মাদকসেবী-গবাদিপশু
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘরই এখন পরিত্যক্ত। সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন, নিয়মিত তদারকি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগে প্রকল্পের শতাধিক ঘর দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পরিত্যক্ত ঘরের কিছু মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে, আবার কিছু ঘর ব্যবহৃত হচ্ছে গবাদিপশুর গোয়াল ঘর হিসেবে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চার ধাপে মঠবাড়িয়ায় মোট ৮৩০টি ঘর নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৮১টি, দ্বিতীয় ধাপে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০টি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে প্রতিটি ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ে যথাক্রমে ২৯৫টি ও ১৫৪টি ঘর নির্মিত হয়। ঘরের চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করা হলেও প্রকৃত ভূমিহীনদের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নামেও বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উটজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখালি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৬টি ঘরের মধ্যে ১, ২, ৬, ৯, ১৩, ১৫, ৫১ ও ৬১ নম্বরসহ অন্তত আটটি ঘর দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ। একই ইউনিয়নের গোলবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৩টি ঘরের মধ্যে ৬, ১০, ১৩, ১৫, ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ঘরেও কোনো বাসিন্দার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, উটজেলার পাঁচশতকুড়া টিকিকাটা ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সুফিয়া বেগমের নামে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে যাওয়ার কোনো সড়ক না থাকায় সেখানে গত তিন -চার বছর ধরে কেউ বসবাস করছেন না। স্থানীয়রা বর্তমানে ওই ঘরটি গবাদিপশু রাখার কাজে ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ঘর অর্থের বিনিময়ে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আবার অনেক উপকারভোগী অল্প কিছুদিন থাকার পর নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ায় ঘরগুলো খালি পড়ে আছে। এসব ফাঁকা ঘরকে কেন্দ্র করে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব ঘরে যাতায়াতের সুবিধা নেই এবং যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত রয়েছে, সেগুলোর অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে জরিপের মাধ্যমে অনুপস্থিত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ঘর বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বী বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও কথা জানান তিনি।









