সংবাদ শিরোনাম ::
ডিজিটাল হাজিরা ফ্রিজে রেখে সুন্দরগঞ্জে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারি ৫০ লক্ষ টাকা
নিজস্ব প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৩৭৭ বার পড়া হয়েছে
সুুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরার মেশিনগুলো ব্যবহার না করে রেখে দেয়া হয়েছে ফ্রিজে। ভেস্তে যেতে বসেছে ৫০ লক্ষ টাকার প্রকল্প।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ২ বছর আগে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন (বায়োমেট্রিক ডিভাইস) ক্রয় করা হলেও সেগুলো এখনো চালু করা হয়নি। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে মেশিনগুলোর ওয়ারেন্টির মেয়াদ। অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানেন না আসলে মেশিন গুলো চালু করা হবে কি না।

২০১৯ সালের স্লিপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রভমেন্ট প্ল্যান) ফান্ডের অর্থ দিয়ে উপজেলায় ২৫৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ডিজিটাল হাজিরা ক্রয় করা হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসে বসে শিক্ষকদের গতিবিধি নজরদারি করাই ছিল এর উদ্দেশ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনিয়ম ও উদাসিনতার কারণে আজও উদ্বোধন হয়নি ডিজিটাল হাজিরা মেশিন।

উপজেলার বেশ কিছু সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , কর্তপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ায় ডিজিটাল হাজিরা চালু করা সম্ভব হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো এই মেশিন সরবরাহ করা হয়নি। বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে ২০১৯ সালে। প্রতিটি মেশিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে ক্রয় করা হয়। ডিজিটাল হাজিরা মেশিন সমুহের সার্ভিসিং এবং ওয়ারেন্টির মেয়াদ ছিল এক বছর। চালুর আগেই এরই মধ্যে দুই বছর পার হয়ে গেছে।

উপজেলার শিবরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, দুই বছর আগে শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে হাজিরা মেশিন কিনতে হবে। তখন তারা মেশিন কিনতে বাধ্য হয়। বিদ্যালয়ের মেশিনটি এখনো ব্যবহার করা হয়নি। উপর থেকে যে নির্দেশনা আসে সেগুলো পালন করতে হয়।

তবে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবহার না থাকায় সঠিক সময় বিদ্যালয়ে আসেন না উপজেলার অনেক শিক্ষক। আবার শিক্ষকরা নিজের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য ভর্তি করিয়েছে বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে।এতে করে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে।এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীদের নিরাপত্তার দিকে নজর না দিয়ে নাম মাত্র হাজিরা দিয়ে শিক্ষকরা যাচ্ছে তাদের ব্যাক্তিগত কাজে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম হারুন উর রশিদ জানান, ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এক চিঠিতে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় স্লিপ ফান্ডের অর্থ দিয়ে পুনরাদেশ না দেওয়া পযন্ত বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন না কেনার জন্য অনুরোধ জানায় জেলা শিক্ষা অফিস। সে কারনে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সবমিলিয়ে মেশিনগুলো এখনো পড়ে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল মারুফ জানান, সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন দিয়েছে। অতিদ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা হবে।













