মঠবাড়িয়া ০৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ায় আশ্রয়ণের ঘরে তালা, দখলে মাদকসেবী-গবাদিপশু বামনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সংবর্ধনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত প্রবাসী মেয়েদের পাঠানো টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনলেন বাবা”আদালতে মামলা” মিরুখালী রোডে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ বামনায় আসমাতুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় প্রকৌশলী মিঠু ও ইসমাইল গংদের মধ্যে জমির বিরোধ : আদালতে মামলা  মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা পরিষদ গঠন মঠবাড়িয়ায় দস্যুতা মামলায় নলী জয়নগরের হাসান চোর গ্রেফতার মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত 

পিরোজপুরে বাণিজ্য মেলার নামে চলছে সর্বনাশা লটারি

পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মার্চ ২০২৩ ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আড়ালে চলছে লাকি কুপন নামের সর্বনাশা লটারির জুয়া। গাভী ও মোটরসাইকেলসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন পুরস্কার ঘোষণা করায় প্রতিদিন শহর ছাড়াও গ্রামগঞ্জে লটারির টিকেট বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রকাশ্যে এসব অবৈধ লটারির টিকেট বিক্রি ও লটারির কার্যক্রম চললেও রহস্যজনকভাবে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন রয়েছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠে চেম্বার অব কমার্সে আয়োজনে মাসব্যাপী এই মেলা শুরু হয়।

মেলা উদ্বোধনের পরদিন থেকেই শুরু হয় সর্বনাশা লটারির টিকেট বিক্রি। মেলার গেট ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চেয়ার টেবিল বসিয়ে মেলার আয়োজক কমিটির লোকজন ২০ টাকা মূল্যের লটারির টিকেট বিক্রি করে আসছেন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে অটোরিকশা যোগে ঘুরে ঘুরে লটারির টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। সারাদিন টিকেট বিক্রি শেষে রাত সাড়ে ১০টায় মেলা চত্বরে লটারি ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন। যদিও মেলার অনুমতি কাগজে উল্লেখ আছে লটারি টিকিট মেলা প্রাঙ্গণের বাহিরে বিক্রি করতে পারিবে না তারপরও প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে আসাদু কিছু পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলা জুড়ে সর্বনাশা লটারি টিকিট বিক্রি চলছে। আবার সেই লটারির ড্র প্রচার করা হচ্ছে টিভিতেও।

গাভী, মোটরসাইকেল, ফ্রিজসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘোষণা করায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন টিকেট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। রিকশা চালক ছাড়াও দিনমজুর শ্রেণির লোকজন যা আয় করছেন সেই টাকায় বাড়ির বাজার না করে লটারির টিকেট কিনে বাড়ি ফিরছেন। আবার অনেকেই মোটরসাইকেল পুরস্কার পাওয়ার আশায় প্রতিদিন অসংখ্য টিকেট কিনেও মোটরসাইকেল পাচ্ছেন না।

না প্রকাশে অনিচ্ছুক পিরোজপুর বারের সিনিয়র এক আইনজীবী বলেন, আকর্ষণীয় পুরস্কারের ফাঁদে ফেলে লটারির নামে জুয়া চলছে পিরোজপুরে। অথচ পিরোজপুরের প্রশাসন ও সুশীল সমাজ নিরব। চেম্বার অব কমার্স আয়োজনে চলা মেলায় লটারি জুয়া চালানোর দায় জেলা প্রশাসন এড়াতে পারেন না। এভাবে প্রতিদিন লটারি চলতে থাকলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুর রহমান বলেন, মেলায় লটারি চালানোর কোনো প্রকার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শুধু মাত্র দর্শনার্থীদের ক্রয় করা প্রবেশ টিকিটে ড্র করার অনুমতি আছে। কিন্তু এর শর্ত উপেক্ষা করে কেউ যদি মাইকিং করে লটারির টিকিট বিক্রি তা হলে অবশ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মেলার আয়োজক সংস্থা পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও পৌরসভা মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, মেলা চালানোর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন যে সকল শর্তসমূহ দিয়েছে, তা না মানলেতো বিপদ। যেভাবে মাইকিং করে লটারির টিকি বিক্রি করছে, বলা হচ্ছে সেটা বেআইনি। খোঁজ-খবর নিয়ে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

পিরোজপুরে বাণিজ্য মেলার নামে চলছে সর্বনাশা লটারি

আপডেট সময় : ০৪:২৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মার্চ ২০২৩

পিরোজপুরে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আড়ালে চলছে লাকি কুপন নামের সর্বনাশা লটারির জুয়া। গাভী ও মোটরসাইকেলসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন পুরস্কার ঘোষণা করায় প্রতিদিন শহর ছাড়াও গ্রামগঞ্জে লটারির টিকেট বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রকাশ্যে এসব অবৈধ লটারির টিকেট বিক্রি ও লটারির কার্যক্রম চললেও রহস্যজনকভাবে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন রয়েছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠে চেম্বার অব কমার্সে আয়োজনে মাসব্যাপী এই মেলা শুরু হয়।

মেলা উদ্বোধনের পরদিন থেকেই শুরু হয় সর্বনাশা লটারির টিকেট বিক্রি। মেলার গেট ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চেয়ার টেবিল বসিয়ে মেলার আয়োজক কমিটির লোকজন ২০ টাকা মূল্যের লটারির টিকেট বিক্রি করে আসছেন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে অটোরিকশা যোগে ঘুরে ঘুরে লটারির টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। সারাদিন টিকেট বিক্রি শেষে রাত সাড়ে ১০টায় মেলা চত্বরে লটারি ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন। যদিও মেলার অনুমতি কাগজে উল্লেখ আছে লটারি টিকিট মেলা প্রাঙ্গণের বাহিরে বিক্রি করতে পারিবে না তারপরও প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে আসাদু কিছু পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলা জুড়ে সর্বনাশা লটারি টিকিট বিক্রি চলছে। আবার সেই লটারির ড্র প্রচার করা হচ্ছে টিভিতেও।

গাভী, মোটরসাইকেল, ফ্রিজসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘোষণা করায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন টিকেট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। রিকশা চালক ছাড়াও দিনমজুর শ্রেণির লোকজন যা আয় করছেন সেই টাকায় বাড়ির বাজার না করে লটারির টিকেট কিনে বাড়ি ফিরছেন। আবার অনেকেই মোটরসাইকেল পুরস্কার পাওয়ার আশায় প্রতিদিন অসংখ্য টিকেট কিনেও মোটরসাইকেল পাচ্ছেন না।

না প্রকাশে অনিচ্ছুক পিরোজপুর বারের সিনিয়র এক আইনজীবী বলেন, আকর্ষণীয় পুরস্কারের ফাঁদে ফেলে লটারির নামে জুয়া চলছে পিরোজপুরে। অথচ পিরোজপুরের প্রশাসন ও সুশীল সমাজ নিরব। চেম্বার অব কমার্স আয়োজনে চলা মেলায় লটারি জুয়া চালানোর দায় জেলা প্রশাসন এড়াতে পারেন না। এভাবে প্রতিদিন লটারি চলতে থাকলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুর রহমান বলেন, মেলায় লটারি চালানোর কোনো প্রকার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শুধু মাত্র দর্শনার্থীদের ক্রয় করা প্রবেশ টিকিটে ড্র করার অনুমতি আছে। কিন্তু এর শর্ত উপেক্ষা করে কেউ যদি মাইকিং করে লটারির টিকিট বিক্রি তা হলে অবশ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মেলার আয়োজক সংস্থা পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও পৌরসভা মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, মেলা চালানোর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন যে সকল শর্তসমূহ দিয়েছে, তা না মানলেতো বিপদ। যেভাবে মাইকিং করে লটারির টিকি বিক্রি করছে, বলা হচ্ছে সেটা বেআইনি। খোঁজ-খবর নিয়ে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে