মঠবাড়িয়া ১০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ বামনায় আসমাতুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় প্রকৌশলী মিঠু ও ইসমাইল গংদের মধ্যে জমির বিরোধ : আদালতে মামলা  মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা পরিষদ গঠন মঠবাড়িয়ায় দস্যুতা মামলায় নলী জয়নগরের হাসান চোর গ্রেফতার মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত  মঠবাড়িয়ায় জাতীয় পরিচয় পত্র জাল জালিয়াতি করে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের অভিযোগ  মঠবাড়িয়া উপজেলার নব-যোগদানকৃত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ মঠবাড়িয়ায় বিকাশ একাউন্টে ৩ ঘন্টায় এক কোটি টাকার লেনদেন, গ্রে’ফ’তা’র-২ মঠবাড়ীয়া মোমেনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, অংশ নিলেন সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলাল

জুলাই অভ্যুত্থান শহীদ মামুনের সন্তানের আহাজারি ‘কে আমাদের মানুষ করবে’

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫ ২৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের পরিবর্তনের জন্য গুলি খেয়ে বাবা প্রাণ দিয়েছেন। এখন আমরা চার এতিম ভাইবোন কার কাছে দাঁড়াব? কে আমাদের মানুষ করবে’-কথাগুলো বলছিল জুলাই-আন্দোলনে শহীদ মামুন খন্দকারের অসহায় সন্তানরা। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের মৃত মজিবর খন্দকারের ছেলে মামুন খন্দকার ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় গার্মেন্টস ব্যবসা করতেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের সমর্থকদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন মামুন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামুনের স্ত্রী সাথী খন্দকার আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামুনের ভাই মাহমুদুল হাসান খন্দকার বলেন, ‘পরিবারের জন্য উপার্জন করতে ঢাকায় গিয়ে আশুলিয়ায় বসবাস করতেন মামুন। সেখানেই স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। যারা গুলি করে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।’ ছোট মেয়ে তাওহিদা জানায়, ‘৪ আগস্ট বাবা বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে আর ফেরেননি। আন্দোলনের সময় আমাদের বাড়িতে লোকজন এসে হুমকি দিয়েছিল। পরে শুনতে পাই বাবা গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন। যারা বাবাকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।’ মঠবাড়িয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাইসুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে নিহত মামুন খন্দকারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। পরিবার বলছে, মামুন খন্দকারের মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়েছে তার চার সন্তান। এখন তাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠবে-সেই প্রশ্নই তাদের বুক চিরে বেরিয়ে আসছে প্রতিদিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই অভ্যুত্থান শহীদ মামুনের সন্তানের আহাজারি ‘কে আমাদের মানুষ করবে’

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

দেশের পরিবর্তনের জন্য গুলি খেয়ে বাবা প্রাণ দিয়েছেন। এখন আমরা চার এতিম ভাইবোন কার কাছে দাঁড়াব? কে আমাদের মানুষ করবে’-কথাগুলো বলছিল জুলাই-আন্দোলনে শহীদ মামুন খন্দকারের অসহায় সন্তানরা। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের মৃত মজিবর খন্দকারের ছেলে মামুন খন্দকার ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় গার্মেন্টস ব্যবসা করতেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের সমর্থকদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন মামুন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামুনের স্ত্রী সাথী খন্দকার আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামুনের ভাই মাহমুদুল হাসান খন্দকার বলেন, ‘পরিবারের জন্য উপার্জন করতে ঢাকায় গিয়ে আশুলিয়ায় বসবাস করতেন মামুন। সেখানেই স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। যারা গুলি করে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।’ ছোট মেয়ে তাওহিদা জানায়, ‘৪ আগস্ট বাবা বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে আর ফেরেননি। আন্দোলনের সময় আমাদের বাড়িতে লোকজন এসে হুমকি দিয়েছিল। পরে শুনতে পাই বাবা গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন। যারা বাবাকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।’ মঠবাড়িয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাইসুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে নিহত মামুন খন্দকারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। পরিবার বলছে, মামুন খন্দকারের মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়েছে তার চার সন্তান। এখন তাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠবে-সেই প্রশ্নই তাদের বুক চিরে বেরিয়ে আসছে প্রতিদিন।