বাস চাপায় দুই সচিব নিহতের ঘটনায় চালকের ৯ বছরের কারাদন্ড
- আপডেট সময় : ০২:৩৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ ৪০১ বার পড়া হয়েছে
বাস চাপায় দুই সচিব নিহতের ঘটনায় জামিনে থাকা পলাতক বাস চালক মো. আনোয়ার হোসেনকে একই মামলায় পৃথক তিন ধারায় নয় বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।
গতকাল(২৪ মে) বিকেল চারটার দিকে আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য্য। সেই সাথে আসামীকে দুই লাখ ছয় হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব রিজিয়া বেগম ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান।
বিচারিক আদালতের দন্ডীত আসামী দ্রুতি পরিবহনের বাস চালক মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কামার খেলা গ্রামের মৃত হানিফের ছেলে।
বাস চালক আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমানিত হওয়ায় আদালত দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৭৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড, ৩০৪-খ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড, ৩৩৮-ক ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৪২৭ ধারায় ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করে।
বর্ণিত সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। একই সাথে আসামীর উপর ৩০৪-খ ধারায় আরোপিত অর্থদন্ডের টাকা আদায় করে নিহত দুই পরিবারকে সমহারে প্রদান করার নির্দেশ দেয় আদালত।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৩১ জুলাই মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব রিজিয়া বেগম ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পাজারো জিপ গাড়িতে করে গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। শিবালয় উপজেলার উথলী সংযোগ মোড়ে এসে পৌছলে সকাল সাতটার দিকে দ্রুতি পরিবহনের বাসটি তাদের গাড়িকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হলে তাদেরকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় সেদিনই বিসিক প্রধান কার্যালয় ঢাকার এজিএম মো. সামসুল হক বাদি হয়ে শিবালয় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল ইসলাম ভূইয়া ২০১০ সালের ১৯ আগষ্ট একজনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষে এ রায় ঘোষনা করে আদালত।













