মঠবাড়িয়া ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ার রাজ মন্দিরে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা”এক আঙিনায় ১৬০ প্রতিমা” মঠবাড়িয়ায় শুরু হলো সাপ্তাহিক পাঠ চক্রের আসর “পাঠ চত্ত্বর” মঠবাড়িয়ায় হ*ত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে জামিন নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার মঠবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের মিড-ডে মিলে মেয়াদোত্তীর্ণ বনরুটি দেওয়ার অভিযোগ মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হাসান সাময়িক বরখাস্ত মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা, আনসার সিপাহির সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ মঠবাড়িয়ায় কাজী একতা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে পিরোজপুর পুলিশ সুপার কর্তৃক মঠবাড়িয়া সার্কেল ও মঠবাড়িয়া থানা পরিদর্শন। মঠবাড়িয়ায় ডেঙ্গু মশার বিস্তাররোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আগামীর বরিশাল নিয়ে সংসদ ভবনে রুহুল আমিন দুলালের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

লক্ষ্মীপুরে সুপারিতে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে

সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২ ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর জেলাতে উৎপাদিত সুপারি ক্রয়-বিক্রয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মেঘনা উপকূলীয় এই জনপদে এবার হাজার কোটি টাকা লেনদেনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। মানুষও সুপারি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে সুপারি বাগানগুলো অপরিকল্পিত ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগিয়ে সুপারি বাগান করলে আরও কয়েকগুণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রায়পুর ও মান্দারীর একাধিক ব্যবসায়ী জানায়, এবার প্রতিটি সুপারি দেড় থেকে ২ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। প্রতি পোন (৮০টি) সুপারি ১৫০-১৯০ টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। প্রতি কাউন (১৬ পোন) ২৬০০-২৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এবার সুপারি উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশি। তবে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় এই বছর সুপারির আকার অনেকটা ছোট। বেশি দামে কিনলেও পরে বিক্রি করতে গেলে দাম কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জ উপজেলা ও রায়পুর উপজেলার

ও সদর উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা সুপারি কেনাবেচা হয়। মৌসুমের এই সময়ে অস্থায়ী সাপ্তাহিক হাট-বাজারগুলো পুরোদমে জমজমাট থাকে। রায়পুর উপজেলাতে হায়দরগঞ্জ, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, মিতালীবাজার, আলিয়া মাদরাসা মাঠ, রামগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ, পানপাড়া, কাঞ্চনপুর, দল্টা, সদর উপজেলার দালালবাজার, রসুলগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ মান্দারি, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী সুপারির বাজার বসে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা লক্ষ্মীপুরে এসে সুপারি কিনে নানাপ্রান্তে নিয়ে যান। সেখান থেকে আবার বিদেশও পাঠাচ্ছেন আড়তদাররা। সাধারণত সুপারি কাঁচা, ভেজা ও শুকিয়ে বিক্রি করা হয়।

রায়পুর পৌরসভার দক্ষিণ দেনায়েতপুর এলাকার আবদুল লতিফ বলেন, বাপ-দাদারা বাগান রেখে গেছেন। এর নারিকেল-সুপারি বিক্রি করেই আমার সংসার চলে। সুপারির ওপর অনেক মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে সাত হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যে এবার সুপারি থেকে হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। গেল বছর প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা আয় করেছে লক্ষ্মীপুর জেলাতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. জাকির হোসেন বলেন, সুপারি কেন্দ্রিক লক্ষ্মীপুরে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ রয়েছে। চলতি মৌসুমে সুপারির দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি সুপারি ২ টাকা পর্যন্ত দিয়ে ব্যবসায়ীরা কিনছেন

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

লক্ষ্মীপুরে সুপারিতে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে

আপডেট সময় : ০১:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২

লক্ষ্মীপুর জেলাতে উৎপাদিত সুপারি ক্রয়-বিক্রয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মেঘনা উপকূলীয় এই জনপদে এবার হাজার কোটি টাকা লেনদেনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। মানুষও সুপারি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে সুপারি বাগানগুলো অপরিকল্পিত ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগিয়ে সুপারি বাগান করলে আরও কয়েকগুণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রায়পুর ও মান্দারীর একাধিক ব্যবসায়ী জানায়, এবার প্রতিটি সুপারি দেড় থেকে ২ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। প্রতি পোন (৮০টি) সুপারি ১৫০-১৯০ টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। প্রতি কাউন (১৬ পোন) ২৬০০-২৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এবার সুপারি উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশি। তবে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় এই বছর সুপারির আকার অনেকটা ছোট। বেশি দামে কিনলেও পরে বিক্রি করতে গেলে দাম কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জ উপজেলা ও রায়পুর উপজেলার

ও সদর উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা সুপারি কেনাবেচা হয়। মৌসুমের এই সময়ে অস্থায়ী সাপ্তাহিক হাট-বাজারগুলো পুরোদমে জমজমাট থাকে। রায়পুর উপজেলাতে হায়দরগঞ্জ, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, মিতালীবাজার, আলিয়া মাদরাসা মাঠ, রামগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ, পানপাড়া, কাঞ্চনপুর, দল্টা, সদর উপজেলার দালালবাজার, রসুলগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ মান্দারি, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী সুপারির বাজার বসে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা লক্ষ্মীপুরে এসে সুপারি কিনে নানাপ্রান্তে নিয়ে যান। সেখান থেকে আবার বিদেশও পাঠাচ্ছেন আড়তদাররা। সাধারণত সুপারি কাঁচা, ভেজা ও শুকিয়ে বিক্রি করা হয়।

রায়পুর পৌরসভার দক্ষিণ দেনায়েতপুর এলাকার আবদুল লতিফ বলেন, বাপ-দাদারা বাগান রেখে গেছেন। এর নারিকেল-সুপারি বিক্রি করেই আমার সংসার চলে। সুপারির ওপর অনেক মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে সাত হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যে এবার সুপারি থেকে হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। গেল বছর প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা আয় করেছে লক্ষ্মীপুর জেলাতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. জাকির হোসেন বলেন, সুপারি কেন্দ্রিক লক্ষ্মীপুরে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ রয়েছে। চলতি মৌসুমে সুপারির দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি সুপারি ২ টাকা পর্যন্ত দিয়ে ব্যবসায়ীরা কিনছেন