শোকাবহ আগষ্ট, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারানোর মাস আগষ্ট
- আপডেট সময় : ১২:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে
বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে আগস্ট মাস। আগস্ট বাংলা ও বাঙালির শোকের মাস। বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বহু জনপ্রিয় নেতার জন্ম হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জনপ্রিয়তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বেশ শীর্ষের দিকে রয়েছেন। আমার একথা বলার পেছনের যুক্তিগুলো হচ্ছে সত্তরের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার শতকরা ৯০ ভাগের বেশি ভোটার বঙ্গবন্ধুর নৌকায় ভোট দিয়েছেন। একাত্তরের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা শেখ মুজিবের নির্দেশে এ দেশ পরিচালিত হয়েছে।
অথচ দেশে তখন সামরিক সরকার ক্ষমতায় বহাল ছিল। ২/৪ জন ছাড়া এদেশের প্রায় সবাই মুজিবের নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। শত্রুর কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের ৯ মাসে তার নামেই স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে এবং তার নামেই মুক্তিযোদ্ধারা হাসতে হাসতে জীবনদান করেছেন।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ঘাতক মেজর ডালিম ভোর ৬টার দিকে বেতার ঘোষণায় জানায়, শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে এবং খোন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে। সকাল প্রায় ৮টায় খোন্দকার মোশতাক বেতারে প্রদত্ত ভাষণে বলেন- “তার উপর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।”
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও তার পরিবারের সদস্যদের লাশ ধানমন্ডির বাড়িতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার সদস্য কয়েকজন বাদে প্রায় সবাই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী মোশতাক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে যোগদান করে। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধান এবং বিডিআর, পুলিশ, রক্ষী বাহিনী প্রধানরা পৃথকভাবে বেতারে খুনি সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।
ঘাতকচক্র রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু, তার পরিবারের সদস্যবর্গ, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে প্রভাবশালী যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণিকে সস্ত্রীক হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর বিশাল দল, লাখো নেতাকর্মী, সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিডিআর সবাই ছিলেন। সবাই থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব ইতিহাসের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিবাদ হয়নি। জাতির সেই কলঙ্কিত দিনের ৪৮ বছরে হত্যাকান্ডে স্বীকার হওয়া সকলের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।
মোহাম্মদ মুনতাসীর মামুন
– গলাচিপা, পটুয়াখালী।













