মঠবাড়িয়া ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বামনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সংবর্ধনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত প্রবাসী মেয়েদের পাঠানো টাকা দিয়ে ছেলেদের নামে জমি কিনলেন বাবা”আদালতে মামলা” মিরুখালী রোডে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ বামনায় আসমাতুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় প্রকৌশলী মিঠু ও ইসমাইল গংদের মধ্যে জমির বিরোধ : আদালতে মামলা  মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা পরিষদ গঠন মঠবাড়িয়ায় দস্যুতা মামলায় নলী জয়নগরের হাসান চোর গ্রেফতার মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত  মঠবাড়িয়ায় জাতীয় পরিচয় পত্র জাল জালিয়াতি করে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের অভিযোগ 

সাদিক-শাম্মী-মেনন-মঞ্জু-ডা. রুস্তুম ও শাহজাহানকে নিয়ে ভোটের মাঠে নানা সমীকরণ

মঠবাড়িয়া অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২২৮ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বরিশাল সদর আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী ও সদ্য বিদায়ী মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ ও বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাম্মি আহমদের প্রার্থিতা বাতিলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ শুরু হতে যাচ্ছে। অপরদিকে মহাজোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে বরিশাল-৩ এবং জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-৩ আসন দুটি ছেড়ে দেয়া হলেও তা নিয়েও অনেক হিসেব নিকেশ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে। ঝালকাঠী-১ আসনে বিএনপি থেকে বিতাড়িত শাহজাহান ওমর বীর উত্তম নৌকার হাল ধরলেও তার প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মুনিরুজ্জামান দলেরই একটি বড় অংশ নিয়ে নতুন মাঝির ঘুম হারাম করতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

গত ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সদ্যবিদায়ী মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু হলফনামায় স্ত্রীর নামে আমেরিকাতে বাড়ী থাকার বিষয়টি উল্লেখ না করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন জাহিদ ফারুক। বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা সাদিকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও তার বিরুদ্ধে আপীল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। অপরদিকে সাদিক আবদুল্লাহ ও জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারসহ একাধিক অভিযোগে আপীল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে শুক্রবার নির্বাচন কমিশন জাহিদের প্রার্থিতা বহাল রেখেছে। সাদিক আবদুল্লাহ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।

অপরদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাম্মি আহমদ-এর প্রার্থিতাও বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বরিশালে রিটার্নিং কর্মকর্তাও প্রার্থিতা বাতিল করলে শাম্মী আহমদ তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপীল করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে শুক্রবার দিনের প্রথমভাগে নির্বাচন কমিশন শাম্মীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সব পদ হারানো বর্তমান এমপি পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে শাম্মির আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে। ফলে আওয়ামী লীগের সব পদ হারানো পঙ্কজই বরিশাল-৪ আসনে মূল প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। এমনকি উচ্চ আদালতে শাম্মী আবেদন করে অনুকূল কোনো সিদ্ধান্ত না পেলে অনুসারী স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের সমর্থন নিয়ে পঙ্কজের জন্য মূল বিরোধী দলহীন আসন্ন নির্বাচনী মসৃণ পথ অতিক্রম মোটেই কষ্টকর নাও হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

এদিকে ২০০৮ থেকে ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বরিশালে নিজ বাড়ীর মূল আসনের পরিবর্তে ঢাকায় নির্বাচন করায় এলাকায় তার অবস্থানের অনেকটাই দখল নিয়েছেন জাতীয় পার্টির একাধিকবারের এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু। এমনকি ২০১৩ সালে বিরোধী দলহীন নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও ২০১৮’তে মহাজোটের এ প্রার্থী জাপার গোলাম কিবরিয়া টিপুর কাছে ৪র্থ স্থানে থেকে জামানত হারিয়েছিলেন।

গত ১৫ বছরের ধারাবাহিকতায় রাশেদ খান মেনন এবারো ঢাকায় মনোনয়ন চাইলেও মহাজোটের মূল শরিক তাকে বরিশালে পাঠিয়েছেন। ফলে নিজের বাড়ির এলাকায়ই এবার তাকে যথেষ্ট বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। ২০১৩’তে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে টিপুর ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও এলাকাবাসীর ভাগ্যে তেমন কিছু জোটেনি বলে অভিযোগে ২০১৮’তে তার অবস্থান ৪র্থতে নেমে যায়। নিজের ও দলের জন্য জনসমর্থন তৈরির সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ফলে এ আসনটিতে একাধিকবারের এমপি রাশেদ খান মেননের জন্যও ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

এদিকে পিরোজপুর-২ আসনে মূল জাতীয় পার্টি ও জেপি থেকে ৮ বারের এমপি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবারো মহাজোট থেকে একমাত্র আসনটি পেলেও সেখানে তার বড় প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পিরোজপুরে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ। রাজনীতির মাঠে বয়সে খুব প্রবীণ না হলেও অনেক কলাকৌশল অবলম্বন করে ইতোমধ্যে মহারাজ আনায়ার হোসেন মঞ্জুর দূর্গে হানা দিতে শুরু করেছেন। মঞ্জুর বেশ কিছু ও নেতা-কর্মীকে নিজের কাছে টানতে সক্ষম হলেও আসন্ন নির্বাচনে মহারাজ তাদের কতটুকু কাজে লাগাতে পারবেন সে বিষয়টি বুঝতে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে চান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। তবে পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক নির্বাচিত এ চেয়ারম্যান ভান্ডারিয়া-কাউখালী ও নেসারাবাদের রাজার আসনে বসতে এখন মরিয়া। কারণ এখানেও আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই মহারাজকে সমর্থন দিতে পারেন বলে ইতোমধ্যে আভাস পাওয়া গেছে।

অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় পার্টির দ্বিতীয় নিরাপদ আসন পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়ীয়ার) আসনটি এবার তাদের হাতছাড়া হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে একাধিকবারের এমপি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীকে মনোনয়ন না দেয়ায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ফরাজী এলাকার ভোটের রাজনীতি ও গণমানুষের অত্যন্ত কাছের হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আছেন দীর্ঘদিন ধরেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাদিক-শাম্মী-মেনন-মঞ্জু-ডা. রুস্তুম ও শাহজাহানকে নিয়ে ভোটের মাঠে নানা সমীকরণ

আপডেট সময় : ০২:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বরিশাল সদর আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী ও সদ্য বিদায়ী মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ ও বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাম্মি আহমদের প্রার্থিতা বাতিলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ শুরু হতে যাচ্ছে। অপরদিকে মহাজোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে বরিশাল-৩ এবং জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-৩ আসন দুটি ছেড়ে দেয়া হলেও তা নিয়েও অনেক হিসেব নিকেশ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে। ঝালকাঠী-১ আসনে বিএনপি থেকে বিতাড়িত শাহজাহান ওমর বীর উত্তম নৌকার হাল ধরলেও তার প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মুনিরুজ্জামান দলেরই একটি বড় অংশ নিয়ে নতুন মাঝির ঘুম হারাম করতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

গত ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সদ্যবিদায়ী মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু হলফনামায় স্ত্রীর নামে আমেরিকাতে বাড়ী থাকার বিষয়টি উল্লেখ না করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন জাহিদ ফারুক। বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা সাদিকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও তার বিরুদ্ধে আপীল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। অপরদিকে সাদিক আবদুল্লাহ ও জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারসহ একাধিক অভিযোগে আপীল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে শুক্রবার নির্বাচন কমিশন জাহিদের প্রার্থিতা বহাল রেখেছে। সাদিক আবদুল্লাহ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।

অপরদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাম্মি আহমদ-এর প্রার্থিতাও বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বরিশালে রিটার্নিং কর্মকর্তাও প্রার্থিতা বাতিল করলে শাম্মী আহমদ তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপীল করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে শুক্রবার দিনের প্রথমভাগে নির্বাচন কমিশন শাম্মীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সব পদ হারানো বর্তমান এমপি পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে শাম্মির আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে। ফলে আওয়ামী লীগের সব পদ হারানো পঙ্কজই বরিশাল-৪ আসনে মূল প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। এমনকি উচ্চ আদালতে শাম্মী আবেদন করে অনুকূল কোনো সিদ্ধান্ত না পেলে অনুসারী স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের সমর্থন নিয়ে পঙ্কজের জন্য মূল বিরোধী দলহীন আসন্ন নির্বাচনী মসৃণ পথ অতিক্রম মোটেই কষ্টকর নাও হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

এদিকে ২০০৮ থেকে ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বরিশালে নিজ বাড়ীর মূল আসনের পরিবর্তে ঢাকায় নির্বাচন করায় এলাকায় তার অবস্থানের অনেকটাই দখল নিয়েছেন জাতীয় পার্টির একাধিকবারের এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু। এমনকি ২০১৩ সালে বিরোধী দলহীন নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও ২০১৮’তে মহাজোটের এ প্রার্থী জাপার গোলাম কিবরিয়া টিপুর কাছে ৪র্থ স্থানে থেকে জামানত হারিয়েছিলেন।

গত ১৫ বছরের ধারাবাহিকতায় রাশেদ খান মেনন এবারো ঢাকায় মনোনয়ন চাইলেও মহাজোটের মূল শরিক তাকে বরিশালে পাঠিয়েছেন। ফলে নিজের বাড়ির এলাকায়ই এবার তাকে যথেষ্ট বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। ২০১৩’তে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে টিপুর ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও এলাকাবাসীর ভাগ্যে তেমন কিছু জোটেনি বলে অভিযোগে ২০১৮’তে তার অবস্থান ৪র্থতে নেমে যায়। নিজের ও দলের জন্য জনসমর্থন তৈরির সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ফলে এ আসনটিতে একাধিকবারের এমপি রাশেদ খান মেননের জন্যও ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

এদিকে পিরোজপুর-২ আসনে মূল জাতীয় পার্টি ও জেপি থেকে ৮ বারের এমপি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবারো মহাজোট থেকে একমাত্র আসনটি পেলেও সেখানে তার বড় প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পিরোজপুরে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ। রাজনীতির মাঠে বয়সে খুব প্রবীণ না হলেও অনেক কলাকৌশল অবলম্বন করে ইতোমধ্যে মহারাজ আনায়ার হোসেন মঞ্জুর দূর্গে হানা দিতে শুরু করেছেন। মঞ্জুর বেশ কিছু ও নেতা-কর্মীকে নিজের কাছে টানতে সক্ষম হলেও আসন্ন নির্বাচনে মহারাজ তাদের কতটুকু কাজে লাগাতে পারবেন সে বিষয়টি বুঝতে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে চান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। তবে পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক নির্বাচিত এ চেয়ারম্যান ভান্ডারিয়া-কাউখালী ও নেসারাবাদের রাজার আসনে বসতে এখন মরিয়া। কারণ এখানেও আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই মহারাজকে সমর্থন দিতে পারেন বলে ইতোমধ্যে আভাস পাওয়া গেছে।

অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় পার্টির দ্বিতীয় নিরাপদ আসন পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়ীয়ার) আসনটি এবার তাদের হাতছাড়া হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে একাধিকবারের এমপি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীকে মনোনয়ন না দেয়ায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ফরাজী এলাকার ভোটের রাজনীতি ও গণমানুষের অত্যন্ত কাছের হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আছেন দীর্ঘদিন ধরেই।