মঠবাড়িয়ায় নির্যাতন, বাড়ির সীমানার বেরা কাটা ও বসতঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:০৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে নির্যাতন, বাড়ির সীমানার বেরা কাটা ও বসতঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর পশুরিয়া গ্রামে ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর পশুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাসেম মাঝির দুই ছেলে শহিদ মাঝি ও শাহিন মাঝি প্রবাসে থাকেন। এদিকে শহিদ মাঝি ছুটিতে এসে পরিবারের নিরাপত্তার জন্যে বাড়ির সীমানায় নেট ও তারকাটা দিয়ে বেরা দেয়। কিন্তু এলাকার কিছু কুচক্রী মহল সহ্য করতে না পেরে উক্ত বেরা কাটার পায়তারা চালায়। এতে শহিদ মাঝি বিদেশে থাকায় বাড়ির দেখাশোনা করেন শ্যালক বাবুল হোসেন হাওলাদার। বিষয়টি শহিদ মাঝির বড় ভাই সাহেদ মাঝি ও তার ছেলে শাকিল ওরফে অলি স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে বাবুল হোসেন হাওলাদার ও তার বোন সালমা বেগমের উপরে নির্যাতন, বসতঘরে আগুন দেয়া ও সীমানার বেরা কাটাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী বাবুল হোসেন হাওলাদারের বাবা দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, আমার ছেলে বাবুল হোসেন হাওলাদার ও তার স্ত্রী ব্যক্তিগত কাজে মঠবাড়িয়াতে ছিল। ১১ মার্চ শুক্রবার আমি জোহরের নামাজ আদায় করে বাড়িতে ঢোকার সময়ে সাহেদ মাঝির ছেলে শাকিল ওরফে অলিকে আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে দেখি। বাড়িতে এসে দেখি আমার বসতঘরে আগুন জ্বলে। পরে আমি ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিষয়টি নিয়ে শাকিল ওরফে অলিকে বিবাদী করে আমি মঠবাড়িয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও আমরা কোন বিচার পাই নাই। আগুনের বিষয়ে আমার মেয়ের সাপোর্ট করার কারনে আমাদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে মনে করে আমাদের সন্দেহ হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে প্রবাসী শহিদ মাঝির স্ত্রী সালমা বেগম জানান, আমার শ্বশুরে মারা যাওয়ার পরে শ্বাশুড়িকে নিয়ে দুই পরিবার এক বসতঘরে বসবাস করি। শহিদ মাঝি ও শাহিন মাঝি প্রবাসে থাকায় আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে শাকিল ওরফে অলির নের্তৃত্বে এলাকার বখাটে ছেলারা প্রবেশ করে। যার কারনে শহিদ মাঝি ছুটি নিয়ে বড়িতে এসে পুরো বাড়ির সীমানায় তারকাটা ও নেট দিয়ে বেরা দেয়। বিষয়টি আমার ভাসুর সাহেদ মাঝি সহ্য করতে না পেরে উক্ত বেরা কাটার পায়তারা চালায়। একপর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার মোল্লাকে ভুল বুঝিয়ে সাহেদ মাঝি সহ বিভিন্ন লোকজন ১৫ মার্চ শুক্রবার আমার নিষেধকে অমান্য করে তারা বেরার অনেকাংশ কেটে ফেলে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্যে অভিযুক্ত সাহেদ মাঝি ও ছেলে শাকিল ওরফে অলি মাঝির কাছে জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বাবুল হোসেন হাওলাদারকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে প্রবাসী শহিদ মাঝি ও শাহিন মাঝির মা বলেন, আমার অনুমতি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ লোকজনে বেরা কেটে দিয়ে যায়।
বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার মোল্লার কাছে মুঠো ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রবাসী শহিদ মাঝি ও শাহিন মাঝির মায়ের অনুমতি ও তার চলাচলের জন্যে বেরা কাটা হয়েছে এবং আগুনের বিষয়টি পরে জেনেছি। দুইটি বিষয়ে পুরোপুরি ফয়সালার জন্য দুই পক্ষকে সময় করে বসতে বলা হয়েছে।













