সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচন ঘিরেও স’হিংসতা”আ’হত-৫
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ নিরসন না হতেই উপজেলা নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল আওয়ামী লীগে বিভক্তি বাড়ছে, বাড়ছে সহিংসতা। এবার উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক নৌকায় নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি দলটি কেন্দ্রীয়ভাবেও কাউকে সমর্থন দেয়নি। এর ফলে নির্বাচনে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, কোন মন্ত্রী-এমপিদের পরিবারের সদস্যরা নির্বাচন করতে পারবে না। কিন্তু সে নির্দেশনা মানছেন আওয়ামী লীগের কেউই। তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলা পরিষদে ২৯ মে ২০২৪ ৫ মে মনোনয়ন পত্র বাছাই ও মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষ সময় ছিল ১২ই মে।প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হয় গত ১৩ই মে। ২১ টি উপজেলায় ভোট হবে ইভিএমে বাকিগুলো ব্যালটে।
সেই ধারাবাহিকতায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৯ মে ইভিএম পদ্ধতিতে। এ নির্বাচনে ভোটের প্রত্যাশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এ্যাডভোকেট বাইজিদ আহমেদ খান ও রিয়াজউদ্দিন আহমেদ এর প্যানেল।
মঙ্গলবার (১৪ মে) দিনগত রাতে উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়ন বাজারে নির্বাচনি প্রচারণাকে ঘিরে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে আনারস প্রতীকের সমর্থক আহত বাবলু তালুকদারের অবস্থা আশংকজনক হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আর দোয়াত কলম প্রতীকের সমর্থক গুরুতরক আহত মোস্তফা খানকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মিরুখালীর সোবাহান খানের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ মোস্থফা খান (৫০), বাদুরা গ্রামের শাহ আলম খানের ছেলে মো. রাকিব (২৬), মিরুখালী ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামের রশিদ তালুকদারের ছেলে বাবলু তালুকদার(৩০), বড় শৌলা গ্রামের রশিদ তালুকদারের ছেলে বাদল তালুকদার (৩৫), ও সোনাখালী গ্রামের জালাল ফরাজীর ছেলে মামুন (১৯) ,
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে মঠবাড়িয়া জেলা পরিষদ সংলগ্ন শহীদ মোস্তফা খেলার মাঠে দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. বায়েজীদ আহম্মেদ পথসভা শেষে মিরুখালী বাজারে নির্বাচনি অফিসে বসেন। এসময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকের রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের সমর্থকরা মিরুখালী বাজারে একটি মিছিল বের করে। তা দোয়াত কলম প্রতীকের অফিসের সামনে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনারস প্রতীকের তিন সমর্থকে গুরুতর জখম করে দোয়াত কলম প্রতীকের সমর্থকরা। এসময় দোয়াত-কলম প্রতীকের সমর্থক মিরুখালীর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু হানিফ খানের বড় ভাই মোস্তফা খান হামলায় গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে নির্বাচনি মিছিলে যাওয়ার পথে দক্ষিণ সোনাখালী নামক স্থানে আনারস প্রতীকের সমর্থক কলেজছাত্র মামুনকেও কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষরা।
এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













