মঠবাড়িয়ায় দিনে দুপুরে কলেজ ছাত্রী অপহরণ।
- আপডেট সময় : ১১:১৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪ ৮৫৫ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার দুপুরে হামিদা আক্তার নামক এক কলেজ ছাত্রী অপহরণ হয়। উপজেলা শহরের কৃষ্ণচূড়া ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে একটি মাইক্রো বাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী রুহুল আমিন এর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে হামিদাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে সিনেমা স্টাইলে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এ সময় রুহুল আমিনের সাথে ৮/১০জন সাঙ্গপাঙ্গ অপহরণে সহায়তা করে। হামিদা আক্তার উপজেলার জরিপেরচর গ্রামের হাবিব খানের মেয়ে ও মহিউদ্দিন মহিলা ডিগ্রী কলেজের স্নাতকের ছাত্রী। মালয়েশিয়া প্রবাসী রুহুল আমিন উপজেলার দঃ বড় মাছুয়া গ্রামের মৃত আহমদ আলীর পুত্র ও হামিদার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী।
সূত্র মতে জানা যায়: উপজেলার কৃষ্ণচূড়া ব্রিজ,(কল্লাকাটা) সংলগ্ন এলাকায় হামিদা আক্তারকে একা পেয়ে দলবল নিয়ে অপহরণ করে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী রুহুল।
হামিদার মা খোর্শেদা বেগম জানান: রুহুল মদ্যপ অবস্থায় হামিদাকে নানা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো তাই স্বামীকে ১৮ সালের পর হতে এখন পর্যন্ত একাধিকবার তালাক দেয় হামিদা এতে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হামিদাকে তার বাড়ি হতে গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ তাং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ও ২টি মাইক্রোবাস নিয়ে আরো একবার টেনে-হিঁচড়ে বিবস্ত্র অবস্থায় জনসম্মুখে অপহরণ করে রুহুল।
তখন মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ হামিদাকে উদ্ধার করলে হামিদা বাদী হয়ে সাবেক স্বামী রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে, যা বর্তমানে চলমান আছে। তবে মামলা এড়িয়ে কৌশলে রুহুল তখন প্রবাসে চলে যায়। প্রবাসে গিয়ে হামিদা ও তার পরিবারকে বারবার অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থাকে। এরপর স্তগত মঙ্গলবার পুনরায় অপহৃত হয় হামিদা।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ রুহুল আমিনের বাড়িতে অভিযান চালায় এর কিছুক্ষণ পর রুহুল আমিন হামিদার পরিবারকে ফোন করে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে বাড়াবাড়ি না করতে বলে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান: হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে তাকিয়ে দেখি একটি লালছে রংয়ের অ্যাম্বুলেন্স ও কয়েকটি মোটরসাইকেল গোল করে দাঁড়িয়ে একটি মেয়েকে টানাহেঁচড়া করে মাইক্রোবাসে উঠায়, এ সময় আমরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ৮/১০ জন লোক নানা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দিয়ে নিমিষেই গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
বিষয়টি অবগত হয়ে আমরা সরকারি জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল করে জানাই এবং ফেসবুকে পোস্ট করি।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন: জরুরী সেবায় কল করায় তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিদর্শন করে তারপর হামিদার পিতা হাবিবুর রহমান থানায় এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভিকটিমকে উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে, মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।














