মঠবাড়িয়া ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ার রাজ মন্দিরে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা”এক আঙিনায় ১৬০ প্রতিমা” মঠবাড়িয়ায় শুরু হলো সাপ্তাহিক পাঠ চক্রের আসর “পাঠ চত্ত্বর” মঠবাড়িয়ায় হ*ত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে জামিন নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার মঠবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের মিড-ডে মিলে মেয়াদোত্তীর্ণ বনরুটি দেওয়ার অভিযোগ মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হাসান সাময়িক বরখাস্ত মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা, আনসার সিপাহির সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ মঠবাড়িয়ায় কাজী একতা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে পিরোজপুর পুলিশ সুপার কর্তৃক মঠবাড়িয়া সার্কেল ও মঠবাড়িয়া থানা পরিদর্শন। মঠবাড়িয়ায় ডেঙ্গু মশার বিস্তাররোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আগামীর বরিশাল নিয়ে সংসদ ভবনে রুহুল আমিন দুলালের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

মঠবাড়িয়ায় সড়কের বিদ্যুতের বাল্বের আলোর নিচে বসে পড়াশোনা করে শিশু মারুফ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ১২৬ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সড়কের বিদ্যুতের বাল্বের আলোর নিচে বসে পড়াশোনা করে শিশু মারুফ ইসলাম। বড় হয়ে একদিন ইসলামিক বক্তা হতে চায় মারুফ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মারুফ আল-হেরা মডেল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি সদর ইউনিয়নের মাঝের পোল এলাকায়। পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন তার মা। গর্ভে থাকা অবস্থায় সাত মাস বয়সে মারুফকে ফেলে রেখে বাবা চলে যান। মা লাইলী বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে অভাব-অনটনে সংসার চালাচ্ছেন।

চা, পান, সিগারেট ও বিস্কুট বিক্রি করে দৈনিক যে আয় হয়, তা দিয়ে খেয়ে না-খেয়ে কোনোরকমে চলে সংসার। ৬ বছরের এই ছোট্ট শিশু
মাকে সহযোগিতা করার জন্য ছুটে আসে প্রেসক্লাবের সামনে মায়ের চায়ের দোকানে। মায়ের চায়ের দোকানের কাজের সহযোগিতা করে। ক্রেতাদের ভিড় কমলে পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কখনো প্রেসক্লাবের সিঁড়িকে ‘রিডিং রুম’ বানিয়ে ফেলে।

মারুফের মা লাইলী বেগম কালবেলাকে বলেন, নিজের সন্তান বলে বলছি না, মারুফ ভদ্র ও পরিশ্রমী ছেলে। ভালো কোথাও প্রাইভেট পড়তে দিতে পারিনি। পড়ার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও মেধা দেখে প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জামান আবির তাকে পড়াশোনা করাতে আগ্রহ গড়ে তোলেন এবং আমাকে চায়ের দোকানের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু অভাবের সংসারে ছেলেটাকে সামনের দিনগুলোয় আর পড়াতে পারব কিনা, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। মারুফ বড় হয়ে ইসলামি বক্তা হতে চায়।

পৌর শহরের বাসিন্দা গাজী মাসুদ কালবেলাকে বলেন, প্রতিদিন ব্যবসায়ের কাজে যাওয়ার পথে তাদের দেখতে পাই। ছেলেটি মাকে সহযোগিতা করে পাশাপাশি রাস্তার বিদ্যুতের আলোতে এখানে পড়াশোনা করে।

প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান মমতাজ বলেন, শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে এখানে আসে। এখানের বিদ্যুতের আলোতে বসে পড়াশোনা করে। তার মাকে প্রেসক্লাবের সামনে সবাই মিলে বসার অনুমতি করে দিলে সেখানে বসে চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তার ছেলে মারুফের পড়াশোনার খরচ বহন করে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম কালবেলাকে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে শিশুদের খবর পেয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে শিশুটির পাশে দাঁড়াব যাতে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাইয়ূম কালবেলাকে বলেন, আমার এ বিষয়ে আসলে জানা ছিল না। পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে দরকার হলে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মঠবাড়িয়ায় সড়কের বিদ্যুতের বাল্বের আলোর নিচে বসে পড়াশোনা করে শিশু মারুফ ইসলাম

আপডেট সময় : ০৮:১০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সড়কের বিদ্যুতের বাল্বের আলোর নিচে বসে পড়াশোনা করে শিশু মারুফ ইসলাম। বড় হয়ে একদিন ইসলামিক বক্তা হতে চায় মারুফ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মারুফ আল-হেরা মডেল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি সদর ইউনিয়নের মাঝের পোল এলাকায়। পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন তার মা। গর্ভে থাকা অবস্থায় সাত মাস বয়সে মারুফকে ফেলে রেখে বাবা চলে যান। মা লাইলী বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে অভাব-অনটনে সংসার চালাচ্ছেন।

চা, পান, সিগারেট ও বিস্কুট বিক্রি করে দৈনিক যে আয় হয়, তা দিয়ে খেয়ে না-খেয়ে কোনোরকমে চলে সংসার। ৬ বছরের এই ছোট্ট শিশু
মাকে সহযোগিতা করার জন্য ছুটে আসে প্রেসক্লাবের সামনে মায়ের চায়ের দোকানে। মায়ের চায়ের দোকানের কাজের সহযোগিতা করে। ক্রেতাদের ভিড় কমলে পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কখনো প্রেসক্লাবের সিঁড়িকে ‘রিডিং রুম’ বানিয়ে ফেলে।

মারুফের মা লাইলী বেগম কালবেলাকে বলেন, নিজের সন্তান বলে বলছি না, মারুফ ভদ্র ও পরিশ্রমী ছেলে। ভালো কোথাও প্রাইভেট পড়তে দিতে পারিনি। পড়ার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও মেধা দেখে প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জামান আবির তাকে পড়াশোনা করাতে আগ্রহ গড়ে তোলেন এবং আমাকে চায়ের দোকানের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু অভাবের সংসারে ছেলেটাকে সামনের দিনগুলোয় আর পড়াতে পারব কিনা, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। মারুফ বড় হয়ে ইসলামি বক্তা হতে চায়।

পৌর শহরের বাসিন্দা গাজী মাসুদ কালবেলাকে বলেন, প্রতিদিন ব্যবসায়ের কাজে যাওয়ার পথে তাদের দেখতে পাই। ছেলেটি মাকে সহযোগিতা করে পাশাপাশি রাস্তার বিদ্যুতের আলোতে এখানে পড়াশোনা করে।

প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান মমতাজ বলেন, শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে এখানে আসে। এখানের বিদ্যুতের আলোতে বসে পড়াশোনা করে। তার মাকে প্রেসক্লাবের সামনে সবাই মিলে বসার অনুমতি করে দিলে সেখানে বসে চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তার ছেলে মারুফের পড়াশোনার খরচ বহন করে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম কালবেলাকে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে শিশুদের খবর পেয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে শিশুটির পাশে দাঁড়াব যাতে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাইয়ূম কালবেলাকে বলেন, আমার এ বিষয়ে আসলে জানা ছিল না। পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে দরকার হলে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াবে।